ট্রাভেল টিপস : 101

Posted In: Travel Tips, Traveler's Blog, by on Mar, 20 2015. Leave a Reply

আমাদের মধ্যে কেই বা এমন আছে যার ভ্রমন করতে ভালো লাগে না। দেশ থেকে দেশে ঘুরে বেড়াতে চায় না, পৃথিবীর নিখাদ বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য অবলোকন করতে চায় না, এমন মানুষ মনে হয় খুজে পাওয়াটা অসম্ভব। তবে ভ্রমনে যেতে হলেও তা কোন রকম অযাচিত ঝঞ্ঝা এড়িয়ে স্মরণীয় করে রাখতে কিন্তু সবকিছু খুব গুছিয়ে সাজিয়ে নিয়ম-মাফিক করতে হয়। ভ্রমনে যাওয়ার আগে এবং যেয়ে কি কি বিষয়ে একটু কৌশলী হবেন তাই জানাব আপনাকে। আপনি যদি হয়ে থাকেন ভ্রমনপিপাসু, তাহলে আপনার জন্যই থাকছে ভ্রমন সম্পর্কিত কিছু টিপস ও কৌশল দুটি পর্বে:

  • ট্যুর সারাদিন কি করবেন তার পুরো একটি খসড়া প্ল্যান করুন।সারাদিনে সময় তো তাতে বাঁচবেই, সকল রকম পরিস্থিতির জন্যও আপনি মোটামুটি প্রস্তুত থাকবেন।
  • টুরিস্ট রেস্টুরেন্টগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। যেখানে বেরাতে গিয়েছেন একটু সেখানে আশেপাশে ঘুরে লোকাল বসবাসকারীরা যেখানে খায় সেখানে খাওয়া-দাওয়া সারবেন। খরচটা কমবে উল্লেখযোগ্যভাবে।
  • একদম ভ্রমন মৌসুমে না গিয়ে একটু কম টুরিস্টের সমাগম হয় এমন সময়ে ভ্রমনে যান। গ্রীষ্মের ছুটি বা বছর শেষের শীত এর বন্ধের সময়টি ভ্রমনের সবথেকে উপযুক্ত মৌসুম বলে বিবেচনা করা হয়। একদম এ সময় না গিয়ে এর কাছাকাছি কোন সময়ে যেতে পারেন। তবে ভ্রমন স্থানে অফ-সিজনে যাওয়াটা একদমই উচিত নয়।
  • ঘুরতে যেয়ে কোন রেস্টুরেন্ট এ খাওয়ার থেকে কোন দর্শনীয় স্থানে পিকনিক করতে পারেন। এতে আপনি স্থানীয় সংস্কৃতি, রীতিনীতি খুব কাছে থেকে উপলব্ধি করতে পারবেন।
  • সাধারনত অধিকাংশ হোটেলেই কমপ্লিমেন্টারি নাশ্তা/ব্রেকফাস্ট দেয়া হয়ে থাকে। এখান থেকে ভালো পরিমানে খেয়ে নিন এবং পরবর্তীতে খাওয়ার জন্যও কিছু সাথে নিয়ে নিতে পারেন।
  • একটা শহরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য বাস-ই সবথেকে উত্তম পন্থা। ভ্রমনের স্থান সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকলে ট্যাক্সি বা রেন্ট-এ-কার এ অনেক সময় অনেক অযাচিত অবস্থায় পরতে হতে পারে। এবং হেঁটে যাওয়া বাদ দিয়ে বাস এ যাতায়াতই সব থেকে সাশ্রয়ী। আপনি যদি কোন স্থানে ভ্রমনে যেয়ে রেন্ট-এ-কার থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন এবং নিজেই সে গাড়ি চালান তাহলে একটু ট্র্যাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন থেকে ড্রাইভ করুন। এবং কোথায় গাড়ি পার্ক করছেন এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকুন, কেননা চোরেরা টুরিস্টের গাড়ি বুঝতে পারলে চুরি হওয়ার ঝুঁকি বেশী।
  • একটি দেশে ঘুরতে যেয়ে তার এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াতের সময় কোন পরিবহন ব্যবহার করবেন তার ব্যাপারে ভালোভাবে খোঁজখবর করে নিন। অনেক দেশে এক শহর থেকে আরেক শহর যেতে গাড়ি দিয়ে হাইওয়ে ড্রাইভ বা রেইলপাস দিয়ে ট্রেন এ করে যাওয়ার থেকে কান্ট্রি ইনবাউন্ড এয়ারফেয়ার অর্থাৎ প্লেন টিকেট এর খরচ অনেক সাশ্রয়ী হয়। সেক্ষেত্রে খরচবান্ধব এই প্লেন ব্যবহার করাই পকেটের জন্য মঙ্গল।
  • দর কষাকষি করাটাও কিন্তু খুব কাজে দেয়। অনেক সময়ই আপনি কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই এয়ারলাইন বা হোটেল এর সাথে দরাদরি করে একটা লাভজনক চুক্তি নিশ্চিত করতে পারেন।
  • পানির একটি বোতল সাথে রাখুন, এবং রেস্টুরেন্ট বা হোটেল থেকে এই বোতলে পানি রিফিল করে নিন। তা না হলে আপনাকে পানির বোতল কিনে খেতে হবে। এবং অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে পানির বোতলের খরচ বাদ গেলেই দেখবেন আপনার একটা প্রমান পরিমান টাকা সাশ্রয় হয়েছে যা আপনি শপিংয়ে ব্যয় করতে পারবেন।
  • সাধারণত বেকারিগুলো দিনের শেষে প্রায় অর্ধেক দামে খাবারগুলো বিক্রয় করে থাকে যাতে প্রতিদিন খাবার ফ্রেস থাকে। আপনি সন্ধ্যার নাস্তাটা কিন্তু এমন বেকারি থেকে সারতে পারেন।
  • অনেক ছোটখাটো কিন্তু অতীব প্রয়োজনীয় জিনিস আমরা ভ্রমণকালে নিতে ভুলে যাই। তা হতে পারে টুথব্রাশ, পেস্ট, শেভিং ক্রিম বা রেজর। কখনওবা ফোনের চারজার। এ ক্ষেত্রে তা কেনার জন্য আপনাকে বাইরে যেতে হবে না। হোটেলেই এইসব সামগ্রী অনেক পরিমানে থাকে। হোটেল থেকেই আপনি নামমাত্র মুল্যে প্রয়োজনীয় এরকম সামগ্রী কিনে নিতে পারেন।
  • আপনি যদি গ্রীষ্মে কোথাও ভ্রমন করেন বা উষ্ম আবহাওয়ার কোথাও ঘুরতে যান তাহলে এমন কোন হোটেলে উঠুন যেখানে গরম-ঠাণ্ডা উভয় পানির ব্যবস্থা না, শুধুমাত্র ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থাই আছে। একেতো এ ধরণের হোটেলগুলোতে সাশ্রয়ী, তার উপর আপনার উষ্ম পানির শাওয়ার এর দরকারও হবে না।
  • কোন দেশে ঘুরতে গেলে খুব সল্প সময়ে সাশ্রয়ীভাবে তাদের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার একটা উপায় হল চেষ্টা করুন ওই দেশি কোন উৎসব বা ফেস্টিভাল এ অংশগ্রহন করতে, যেমন – ইন্ডিয়ার হোলি, ব্রাজিলের রিও ফেস্টিভাল, ইউএসএ তে ক্রিস্টমাস ইত্যাদি।
  • আর যদি আপনি ভ্রমনের খরচটা বাঁচানোর সাথে সাথে নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে চান তাহলে ভ্রমণকারী গ্রুপে বা বন্ধুরা দলবদ্ধ হয়ে ভ্রমনে যেতে পারেন। কোন দেশ ভ্রমনের সময় একটি গ্রুপ একসাথে কিছু করলে যেমন মিউজিয়াম বা থিম পার্ক ট্যুর অনেক সুলভ খরচে করতে পারবেন।
  • ভ্রমনে যাওয়ার সময় যা আপনার একদমই দরকার হবে না তা একদমই নেয়া উচিত না। এতে ওজন তো ব্যাগের অতিরিক্ত হবেই, আবার আপনি যে জিনিস অন্য দেশে কম দামে কিনতে পারবেন তা কেন অখান থেকেই স্বল্প দামে না কিনে এখান থেকে টেনে নিয়ে যাবেন?
  • এক শহর থেকে আরেক শহর বা দুরের পথ যদি আপনি ট্রেন বা গাড়িতে করে যান, তাহলে তা অবশ্যই রাতে করুন। এতে আপনার রাতে থাকার হোটেলের খরচও বেঁচে যাবে, আবার আপনি একটু অভ্যস্ত হয়ে গেলে গাড়িতেই ঘুমিয়ে নিতে পারবেন। তবে নিজের ব্যাগ ও মুল্যবান জিনিসপত্র সামলে রাখবেন।

বোনাস টিপ : অবশ্যই কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে ওয়েবসাইটে এবং ট্যুর গাইডবুক থেকে সে স্তান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। ট্যুরিসম ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে সেখানের সম্পর্কিত হোটেল বা এয়ারলাইনে কি কি অফার চলছে তা জেনে নিন এবং দাম তুলনা করে নিন।

About Irtiza

A small town kid, stuck in a big city!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *